সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

জাতির সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রের পথকে সুসংহত করা

  • আপলোড সময় : ১৯-০১-২০২৬ ১০:০১:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০১-২০২৬ ১০:০১:০৪ পূর্বাহ্ন
জাতির সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রের পথকে সুসংহত করা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার আমাদের একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে- গণতন্ত্র ছাড়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গুম, খুন, নির্যাতন, দমন-পীড়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নটি আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রাজধানীতে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা নিছক রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংকটের একটি গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক বিশ্লেষণ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন- প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশে একটি দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য। বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালেই তার বক্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, কিংবা সাম্প্রতিক বছরগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন - প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ জীবন দিয়েছে গণতন্ত্রের আশায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সেই আত্মত্যাগের যথার্থ মর্যাদা আজও নিশ্চিত হয়নি। বরং বিগত এক দশকের বেশি সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-, রাজনৈতিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ রাষ্ট্রীয় বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তারেক রহমান যথার্থভাবেই বলেছেন, যদি আবারও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে তা শুধু বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গেই নয় -পূর্ববর্তী সব শহীদের আত্মত্যাগের সঙ্গেও অবিচার করা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি কেবল ভুক্তভোগীদের ক্ষতই বাড়ায় না, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ক্ষমতায়ন ও সরকারের জবাবদিহি। যেখানে জনগণের ভোটাধিকার নেই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীন নয়, সেখানে ন্যায়বিচার কেবল একটি স্লোগানে পরিণত হয়। গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সহানুভূতির পাশাপাশি তারেক রহমান যে বাস্তব রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন - তা হলো জনগণের আকাক্সক্ষাভিত্তিক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা, সেটিই আজ সময়ের দাবি। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, গণতন্ত্রের এই সম্ভাব্য পথকে বাধাগ্রস্ত করার নানা অপচেষ্টা দৃশ্যমান। বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, কৃত্রিম বিতর্ক ও কৌশলী উসকানির মাধ্যমে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সম্পাদকীয় হিসেবে আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সজাগ থাকা জরুরি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো একক দলের নয়, এটি জনগণের। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষার একমাত্র পথ হলো একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আজ যারা নির্যাতনের শিকার, যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের কাছে ন্যায়বিচার কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয় - এটি জীবনের প্রশ্ন। এই মুহূর্তে জাতির সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রের পথকে সুসংহত করা, বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে চিরতরে বিদায় জানানো এবং একটি মানবিক, দায়বদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। গণতন্ত্র ছাড়া ন্যায়বিচার নেই - এ সত্য অস্বীকার করার আর কোনো অবকাশ নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স